দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ১৯০৩ সালের প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে অভিজাত বা প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। ১২৩ বছরের পুরোনো এই পৌরসভায় জনঘনত্ব কয়েক গুণ বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি সেবার মান। নাগরিক সেবার প্রায় সব সূচক নিম্নমুখী। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাসযোগ্যতায়। প্রথম শ্রেণির মান অনুযায়ী—প্রসস্ত সড়ক, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সুব্যবস্থা থাকার কথা। তবে, অব্যবস্থাপনা আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। পৌর শহরে যত্রতত্র পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। সড়কের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। ১২৩ বছরেরও বেশি পুরনো এই পৌরসভাটি কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণির হলেও এর নাগরিকসেবা ও অবকাঠামো ‘তৃতীয় শ্রেণির’।
পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই পৌরসভার উন্নয়নে ৩০৩ কোটি টাকার কাজ চলমান। এ প্রকল্পে অধিন নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরোনো সড়ক প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মহানন্দা নদীর তীরে ১২৩ বছর আগে গড়ে উঠেছিল এ এলাকা। ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় বড় হতে থাকে শহরের কলেবর। শহরটির আয়াত এখন ২৪ দশমিক ৬০ বর্গ কিলোমিটার। যেখানে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০ হাজার ৩৪৬ জন মানুষ বাস করে। শহরের ২,৩,৬, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ড এই পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্র। সামন্য বৃষ্টিতে ডুবে যায় এসব এলাকার রাস্তঘাট। ফলে দুর্ভোগে পড়ে পৌরবাসী।
পৌরবাসীর অভিযোগ, চার দশক আগে এই পৌরসভা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেও বাড়েনি সেবার মান। প্রাচীন এই শহর বাসযোগ্যতার একেবারে তলানিতে। বেহাল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অন্ধকার শহরে অনিরাপদ মানুষ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাসহ নানা সংকটে বিপর্যস্ত এই শহর। যানজটও এ শহরের বড় একটি সমস্যা। এ জন্যই দুর্ভোগ এই পৌরসভার নাগরিকদের নিত্যসঙ্গী।
পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল সড়ক দখল করে কাঁচা পণ্যের বসানো হচ্ছে। এতে সড়কটিতে যানজট লেগেই থাকছে। এদিকে দীর্ঘদিন মেরামত না করায় অধিকাংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সড়কবাতিগুলো নষ্ট থাকায় সন্ধ্যা নামলে পৌরবাসীকে অন্ধকারে চালাচল করতে হচ্ছে। ঠিকমতো পরিচ্ছন্নতা অভিযান না চালানোর কারণে পাড়া-মহল্লায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, দেশের কোনো পৌরসভায় এত খারাপ সড়ক আছে বলে মনে হয় না। এই জেলার কোথাও এর চেয়ে খারাপ সড়ক নেই। এই পৌরসভার চেয়ে ইউনিয়নের সড়কও অনেক ভালো। এছাড়াও ড্রেনেজ ব্যবস্থাও বেহাল, সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে পুরো এলাকা এডিশ মশার কারখানায় রূপ নিয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ।
শহরের পিটিআই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাকিব বলেন, পৌরবাসী নিয়মিত কর পরিশোধ করলেও কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না। পৌরসভা থেকে যে পানি সরবরাহ করা হয় সেটিও লবনাক্ত, ব্যবহার উপযোগী নয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটিরি সদস্য সচিব মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ১২৩ বছরের পুরানো একটি পৌরসভার সড়কের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। এ ছাড়া শহরের যত্রতত্র পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। এখানকার তৃতীয় শ্রেণির সড়কগুলো দেখলে আর বোঝার উপায় থাকে না যে এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরাম হোসাইন বলেন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়ণের উদ্দেশে ২০১৭ সালে মাস্টারপ্লান’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান নাগরিক সমস্যার সমাধানে নানা পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে এ মাস্টারপ্লানের মাধ্যমে গড়ে উঠবে আধুনিক নগর কাঠামো।
অন্য প্রশ্নে এই শহর পরিকল্পনাবিদ বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় যে পরিকল্পনা করা হয়, সেটি যথেষ্ট নয়। সময়ের নতুন নতুন চাহিদার জন্ম নেয়।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শহরের দীর্ঘদিনের যানজট ও জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সড়ক প্রশসস্তকরণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে কাজ করছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এছাড়া মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে মশকনিধন কার্যক্রম। তিনি আরো বলেন, নাগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে পৌরসভা। তবে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে জনসচেতনতাও প্রয়োজন।
কেএম